আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের কারেকশন হয়েছে এবং মূল্য নিকটতম সাপোর্ট লেভেল 1.3763-এ পৌঁছেছে। সারাদিন সম্পূর্ণরূপে টেকনিক্যাল কারণে ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন হয়েছে, কারণ যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সন্ধ্যায় ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠক শেষ হওয়ার পর স্পষ্ট হয় যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণভাবে মার্চ মাসেই মুদ্রানীতি নমনীয়করণ কার্যক্রম শুরু করতে পারে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে সম্ভাব্য "শাটডাউনের" সম্ভাবনা এতে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে বহু সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীকে গত ছয় মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ছুটিতে পাঠানো হতে পারে এবং ফেড অনির্দিষ্টকালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন থেকে বঞ্চিত হবে। পাওয়েল সতর্ক করেছেন যে প্রতিবেদন ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেবে না। সুতরাং সার্বিক পরিস্থিতি "শাটডাউনের" ওপর নির্ভরশীল, তবুও এতে ব্রিটিশ পাউন্ডের উপর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে পাউন্ডের মূল্য আবারও গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেলের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি চমৎকার ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3814-1.3833 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছিল, এরপর মার্কিন সেশনে মূল্য 1.3763 পর্যন্ত নেমে আবারও সেখান থেকে দুইবার বাউন্স করেছে। এই সিগন্যালটি কাজে লাগিয়ে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করে বেশ ভালোই মুনাফা অর্জন করতে পারতেন। 1.3763 লেভেল থেকে দু'বারের বাউন্সের ফলে গঠিত সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে সম্ভবত ট্রেড করা হয়নি, যদিও ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠক থাকা সত্ত্বেও ট্রেডিং সিগন্যালটি লাভজনক ছিল।
ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, তাই আমরা আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি। মধ্যমেয়াদে বৈশ্বিক পর্যায়ে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি নেই, তাই আমরা ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যা এই পেয়ারের মূল্যকে শিগগিরই 1.4000-এর দিকে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালা এখনও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3814-1.3833 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3763-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3814-1.3833 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেশন করলে নতুন লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানের মূল্যের 1.3891-1.3912-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরত্বপূর্ণ লেভেলসমূহ: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3574-1.3590, 1.3643-1.3652, 1.3763, 1.3814-1.3832। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই আজ ট্রাম্প বিষয়ক সংবাদ ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করা উচিত।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।