আরও দেখুন
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের এক মন্তব্যের পর বিটকয়েনের মূল্য প্রায় $70,000‑এ নেমে যায়। তিনি বলেছেন যে মার্কিন সরকার জব্দকৃত বিটকয়েন ধরে রাখবে, কিন্তু বর্তমান দরপতনের সময় বিটকয়েন কিনবে না এবং মার্কেটে আরও দরপতন হলে ব্যাংকগুলোকেও এই ধরণের অ্যাসেট কেনার জন্য বাধ্য করবে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবেই বিটকয়েনের কৌশলগত রিজার্ভে জব্দকৃত বিটকয়েন রাখার বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে এবং এজন্য আর কোনো বাজেট বরাদ্দ করা হবে না, তাই ক্রিপ্টো মার্কেটের ট্রেডারদের সক্রিয়ভাবে মার্কিন সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা করা উচিত হবে না। যদিও ট্রেজারি সেক্রেটারির মন্তব্যের কারণেই নিশ্চিতভাবে দরপতন শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত হবে না, তবু এগুলো ছোট বিনিয়োগকারীদেরকে আতংকিত করে তাঁদের ক্রিপ্টো অ্যাসেট বিক্রি করতে বাধ্য করেছে। বড় হোল্ডাররা সম্ভবত দরপতনকে কাজে লাগিয়ে আরও আকর্ষণীয় মূল্যে পজিশন ওপেন করেছে — যা অস্থির ক্রিপ্টো মার্কেটে একটি স্বাভাবিক কৌশল। এ ধরনের সরকারি বক্তব্যগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। একদিকে, সক্রিয়ভাবে মার্কিন সরকারি সমর্থনের অভাবে বিটকয়েনের প্রতি আস্থা নড়বড়ে হতে পারে এবং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল করে দিতে পারে। অন্যদিকে, এটি সেই বিকেন্দ্রীভূত অর্থনীতির সমর্থকদের এই যোক্তিকতাকে শক্তিশালী করেছে যারা বিটকয়েনকে রাষ্ট্রীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে মার্কেটের ট্রেডাররা আরও সরকারি কর্মকর্তাদের মন্তব্য এবং বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পদক্ষেপের দিকে দৃষ্টিপাত করবে। এটি মনে রাখা উচিত যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যাপক সমর্থক ছিলেন, এবং তার মন্তব্যগুলো অতীতে মার্কেটে তাৎপর্যপূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আলোচ্য ক্ল্যারিটি বিলসহ ক্রিপ্টো বিধিনিষেধ প্রণয়ন বিষয়ক অগ্রগতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বর্তমান অস্থিরতা সত্ত্বেও অনেক বিশ্লেষক বিটকয়েনের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তারা সীমিত সরবরাহ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ, এবং বিনিময় মাধ্যম ও মূল্য ধরে রাখার উপায় হিসেবে এই অ্যাসেটের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করছেন। ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোন থেকে, বিটকয়েনের ক্রেতারা এটির মূল্যকে $72,100‑এ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করছে, যা $74,600 এবং তারপরে $77,400‑এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে দেবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা প্রায় $80,100‑এর কাছাকাছি অবস্থিত। বিটকয়েনের মূল্য সেই লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, বিটকয়েনের মূল্য $68,900‑এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওই এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে বিটকয়েনের মূল্য $65,700‑এর দিকে নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে প্রায় $62,400‑এর কাছাকাছি পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।
ইথেরিয়ামের ক্ষেত্রে, $2,159‑এর উপরে স্পষ্টভাবে কনসোলিডেশন হলে $2,316‑এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা প্রায় $2,466‑এর কাছাকাছি অবস্থিত। ইথেরিয়ামের মূল্য ওই লেভেল অতিক্রম করলে মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হবে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। যদি ইথারের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $2,017‑এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওই জোনের নিচে গেলে ইথারের মূল্য দ্রুত প্রায় $1,891‑এ নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে প্রায় $1,768‑এর কাছাকাছি পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।
চার্টে যা যা দেখা যাচ্ছে:
সাধারণত, অ্যাসেটের মূল্য এই মুভিং অ্যাভারেজগুলো অতিক্রম করলে বা পৌঁছালে মার্কেটের বর্তমান মোমেন্টাম থেমে যেতে পারে অথবা নতুন প্রবণতার সূচনা হতে পারে।