আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের শুধুমাত্র সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে এবং অস্থিরতার মাত্রাও বেশ কম ছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ডের ট্রেড করা হচ্ছে, এবং এই সপ্তাহে মার্কেটের ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রতিবেদনের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তাই আমরা সন্দিহান যে আজ প্রকাশিতব্য উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন—যেমন নন ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্ব হার—মার্কেটে মুভমেন্ট সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে কিনা। ট্রেডারদের কাছে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই এখনও অগ্রাধিকার পাচ্ছে, কিন্তু বর্তমানে মোট সংবাদ ও ইভেন্টের মাত্র 5-10% বিবেচনা নেয়া হচ্ছে। মার্কেটের ট্রেডাররা আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতির প্রতি আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি রকেট আক্রমণকে সংঘাত তীব্র হওয়ার সমতুল্য মনে করছে না। বিশ্ব এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে যে আলোচনা চলছে কিন্তু কোনো ফলাফল নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে একে অপরকে আক্রমণ করছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে, তবুও যুদ্ধ পুনরায় শুরু হচ্ছে না। ট্রাম্প কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তি হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন, আর তার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান সেই বিবৃতিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। মার্কিন সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে এবং দিনের শেষে প্রায় 20 পিপস দরপতন ঘটেছিল। সেইসাথে, বর্তমানে দুর্বল মুভমেন্ট বিবেচনা করে শর্ট পজিশনটি শুক্রবার পর্যন্ত হোল্ড করা যেতে পারে। একদিনে এই পেয়ারের মূল্য স্পষ্টতই খুব বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে এবং মূল্য ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমনটি এই সপ্তাহে যা লক্ষ্য করা গেছে), তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে যে মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় রয়েছে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজও যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না এবং সেইসাথে কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তবে এই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে এই পেয়ারের মূল্য ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বের হয়ে আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।