আরও দেখুন
বুধবারের উল্লেখযোগ্য দরপতনের পর শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কারেকশনের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। এই পেয়ারের মূল্য দুবার 1.1461–1.1474-এর সাপোর্ট এরিয়া টেস্ট করলেও তা ব্রেক করে নিম্নমুখী হতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, কারেকশনের অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও শুরু না হলেও তা গঠিত হচ্ছে। বরাবরের মতোই, মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য জোরালো কারণ থাকা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার প্রত্যাশায় ট্রেডাররা সক্রিয়ভাবে মার্কিন ডলার ক্রয় করেছেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির পেছনে আর কী কারণ থাকতে পারে? বর্তমানে আমরা তেমন কোনো কারণ দেখতে পাচ্ছি না। গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ আশ্চর্যজনকভাবে কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণ নিয়েছিল, যা মার্কিন ডলারকে সহায়তা করেছিল; তবে সামগ্রিকভাবে মার্কিন ডলারের পরিস্থিতি ইতিবাচক হওয়ার চেয়ে নেতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আর্থিক নীতিমালা কঠোর করছে; তাই মুদ্রানীতিই কেবল মার্কিন ডলারকে সহায়তা করলে বিষয়টি এমন নয়। আমাদের ধারণা, মার্কিন ডলারের দর আপাতত যতটা সম্ভব বেড়েছে এবং এখন ইউরোর মূল্যের একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি বা কোনো ইভেন্টও ছিল না।
শুক্রবার 5-মিনিট টাইমফ্রেমে একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। মার্কিন সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে — যা ওই জোন থেকে এই সপ্তাহে দ্বিতীয় বাউন্স। সুতরাং, এই সপ্তাহে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে —এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই; তবে ট্রেডাররা এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত নীতিমালা ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা এখন মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুকূল হয়ে উঠেছে। তবে শুধুমাত্র এই বিষয়টির উপর ভিত্তি করে মার্কিন ডলার সবসময় সহায়তা পাবে না।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1366–1.1377-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1527–1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754। সোমবার ইইউ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই দিনের মধ্যে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো তেমন কিছু থাকবে না বলে প্রত্যাশা করা যায়। আজ আবারও মার্কেটে স্বল্প মাত্রার ভোলাটিলিটি বা অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।