আরও দেখুন
যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সহায়তায় শুক্রবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে আগস্ট মাসে দেশটির খুচরা বিক্রয় সূচক 0.5% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি; ফলে পাউন্ডের মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার প্রকাশিত শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল (প্রত্যাশিত +0.3%-এর বিপরীতে প্রকৃত হার ছিল 0.0%)—অর্থাৎ, খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও এই দুটি প্রতিবেদনের ফলাফল পাউন্ডকে সহায়তা করেছে। ফেডারেল রিজার্ভের নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশার কারণে GBP/USD-এর মূল্য টানা এক মাস ধরে হ্রাস পেয়েছে; এখন আমরা অন্তত একটি ঊর্ধ্বমুখী কারেকশনের আশা করছি। অবশ্য ট্রেডাররা হয়তো আরও দুই মাস ধরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে মার্কিন ডলারের ক্রয় অব্যাহত রাখতে পারে এবং একই সাথে ২০২৬ সালে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার বিষয়টিকে উপেক্ষা করতে পারে। তবে সামগ্রিক মৌলিক পরিস্থিতি এবং টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাউন্ডের মূল্যের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার 5-মিনিট টাইমফ্রেমে দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। মার্কিন সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, এরপর 1.3380–1.3386 জোনটি টেস্ট ও ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সুতরাং, নবাগত ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় 50 পিপস মুনাফা করতে সক্ষম হতে পারতেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মার্কিন ডলার ও পাউন্ডের ক্ষেত্রে মৌলিক প্রেক্ষাপটের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, কারণ ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে, ২০২৬ সালে মার্কিন ডলারের সার্বিক পরিস্থিতি আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারে এমন আর কোনো অনুকূল বিষয় নেই।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 জোনের নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 জোনের উপর পৌঁছালে এবং সেখানে স্থিতিশীল হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641, 1.3695, 1.3741। সোমবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই GBP/USD-এর মূল্যের স্বল্প মাত্রার ভোলাটিলিটি বা অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।